কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৫:১৯ PM

পটভুমি ও ইতিহাস

কন্টেন্ট: পাতা

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ে রাজশাহী জেলার অন্তর্গত তানোর থানায় কোনো উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ছিল না। শুধু তানোরই নয়, বরং রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার বহু থানাতেই সে সময় উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে এই অঞ্চলের বিশাল গ্রামীণ জনগোষ্ঠী শিক্ষার ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে পিছিয়ে ছিল।
এই বাস্তবতাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে তানোর থানার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী জনাব আব্দুল করিম সরকার সাহেব অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর দূরদর্শিতা, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় গুণীজন, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় “তানোর কলেজ”।
প্রতিষ্ঠাকালেই কলেজটি হয়ে ওঠে অত্র অঞ্চলের উচ্চ শিক্ষার একমাত্র ভরসাস্থল। অজপাড়াগাঁয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী এ কলেজকে কেন্দ্র করে জ্ঞানচর্চার সুযোগ লাভ করে। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি এ এলাকার সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
কিন্তু কলেজ প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছর পরই ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ১৫ অক্টোবর ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে তানোর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জনাব আব্দুল করিম সরকার আততায়ীর গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন। এ অঞ্চলের মানুষ তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হয়।
তাঁর অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাঁর স্বপ্নকে অম্লান রাখতে তৎকালীন কলেজ গভর্নিং বডি ও তানোরবাসীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “আব্দুল করিম সরকার কলেজ”। এর মাধ্যমে তিনি শুধু একজন প্রতিষ্ঠাতা নন, বরং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক অনন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন।
দীর্ঘ সময় ধরে এ কলেজ রাজশাহী বিভাগের তানোর ও আশেপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চ শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।
অবশেষে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজটি ০৮ আগস্ট ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের মাধ্যমে কলেজটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার সুযোগ পেতে শুরু করে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি “সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ” নামে সুপরিচিত। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের প্রতীক। আজও কলেজটি শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে আলোকিত সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং হাজারো শিক্ষার্থীকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন